আলকুশি বীজ চেনার উপায় - আলকুশি বীজ শোধন করার নিয়ম
আলকুশি বীজ এর মহিমা আপনি এতক্ষণে জেনে গিয়েছেন। তাই এখন আলকুশি বীজ চেনার উপায়
এবং বীজ শোধন করার নিয়ম না জানলেই নয়। চলুন তাহলে আলকুশি বীজ চেনার উপায় জেনে
নেওয়ার পাশাপাশি বীজ শোধন করার নিয়ম জেনে নেওয়া যাক।
আলকুশি বীজ চেনার উপায়-আলকুশি বীজ দেখতে কেমন?
অনেকেই রয়েছেন যারা জানেন না আলকুশি বীজ দেখতে কেমন? তাই তাদের আলকুশি বীজ চেনার
উপায় জানা প্রয়োজন। সাধারণত আলকুশি বীজ দুই ধরনের হয়ে থাকে। দেশী আলকুশি বীজ
এবং হাইব্রিড আলকুশি বীজ।
আলকুশি বীজ দেখতে কেমন - নিচে তুলে ধরা হলো:
- দেশি আলকুশি বীজ বাদামী রঙের এবং ছোট ছোট হয়ে থাকে। দেশি আলকুশি বীজ এর উৎপাদন কম। দেশি আলকুশি বীজ যখন খোসার মধ্যে থাকে তখন ওই খোশা গুলো অনেক লম্বা এবং লোম লোম হয় যা গায়ে ঠেকলে অনেক চুলকায়।
- হাইব্রিড আলকুশি বীজ একটু বড় এবং কালো রঙের হয়। হাইব্রিড আলকুশি বীজ অন্যান্য ফসলের মত চাষ করা হয় তাই এর উৎপাদন বেশি।
- দেশি আলকুশি বীজ এবং হাইব্রিড আলকুশি বীজ এর পুষ্টিগুণের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই।
আলকুশি বীজ শোধন করার নিয়ম
সাধারণত আলকুশি বীজ বিষাক্ত হয়ে থাকে। আলকুশি বীজ মিউকুনা প্রুরিয়েন্স নামে
পরিচিত। যা ভেষজ ঔষধের হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে ভীষণ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করার
আগে আলকুশি বীজ শোধন করতে হয়।
তাই আলকুশি বীজ শোধন করার নিয়ম জানা আবশ্যক। চলুন তাহলে আলকুশি বীজ শোধন করার
নিয়ম জেনে নেওয়া যাক:
প্রথমে আলকুশি বীজ ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর আলকুশি বীজ খাটি
দুধে ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। দুধে ভিজিয়ে রাখার ফলে আল খুশি বীজের
বিষাক্ততা ও অম্লতা কমে যায়।
নির্দিষ্ট সময় পর আলকুশি বীজ দুধ থেকে তুলে পুনরায় ভালো হবে ধুয়ে নিতে হয়।
এরপর আলকুশি বীজ গুলো সিদ্ধ করা হয় যার ফলে খোসা গুলো আপনা আপনি খসে যায়। এরপর
বীজগুলো রোদে ভালো হবে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বীজগুলো ব্যবহার উপযোগ্য
হয়।এভাবেই আলকুশি বীজ শোধন করা হয়।
আলকুশি বীজ চূর্ণ খাওয়ার উপকারিতা
আলকুশি বীজ চূর্ণ খাওয়ার উপকারিতা অনেক। আলকুশি বীজ চূর্ণ প্রাচীন কাল থেকে
বিভিন্ন রোগের সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আলকুশি বীজ চূর্ণ এ L-Dopa
রয়েছে যা ডোপামিন হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে।
আলকুশি বীজ চূর্ণ এ প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যা
অনেক উপকারী। চলুন আলকুশি বীজ চূর্ণ খাওয়ার উপকারিতা জেনে নেওয়া যাক:
- মেজাজ ভালো রাখে: আলকুশি বিষ ডোপামিন নিঃসরণে সাহায্য করে। যার ফলে আমাদের মেজাজ ভালো থাকে।
- পারকিনসন্স ডিজিজ নিয়ন্ত্রন করে: আলকুশি বীজে থাকা উচ্চ এল-ডোপা (লেভোডোপা) পারকিনসন্স ডিজিজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
- পুরুষের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: আলকুশি বীজ দেহের টেস্টারেন হরমোনের পরিমাণ বাড়ায়। যার ফলে পুরুষের বীর্য ঘন হয় এবং বৃদ্ধি পায়।
- ডায়বেটিস রোগ প্রতিরোধ করে: আলকুশি বীজের পাউডারে ডি চিরো ইনসিডল থাকে। ডি চিরো ইনসিডল রক্তে সুগারের মাত্রা কম হয় এবং ইনসুলিন এর উপর প্রভাব ফেলে। এইভাবেই ডায়বেটিস রোগ প্রতিরোধ করে।
- ক্যান্সার প্রতিরোধ করে: নিয়মিত আলকুশি বীজের পাউডার খেলে গ্লুটাথিয়ন ও ক্যাটালজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যা, এন্টি অক্সিডেন্ট ও ফ্রি র্যাডিক্যাল এর আঘাত থেকে কোষ গুলকে রক্ষা করে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
- স্ট্রেস হ্রাস করে: আলকুশি বীজে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা আমাদের স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
আলকুশি বীজ পাউডার করার নিয়ম:
আলকুশি বীজ পাউডার অনেক উপকারী। আলকুশি বীজ পাউডার এর এটা জানার পর থেকে মানুষ
আলকুশি বীজ পাউডার খাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু দিন দিন আলকুশি বীজ পাউডার এর দাম
বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আলকুশি বীজ পাউডার করার নিয়ম জানা প্রয়োজন।
আলকুশি বীজ পাউডার করার নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো:
আলকুশি বীজ পাউডার করার জন্য প্রথমে আলকুশি বীজ দুধে শোধন করে নিতে হবে। দুধে
শোধন করার ফলে আলকুশি বীজ এর অম্লতা এবং বিষাক্ততা দূর হবে। এরপর আলকুশি বীজ
পানিতে সিদ্ধ করতে হবে। এরপর আলকুশি বীজ রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
রোদে শুকানো আলকুশি বীজ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে অথবা গ্রামীণ উপায়ে গুঁড়ো
অর্থাৎ পাউডার করে নিতে হবে। এইভাবেই আলকুশি বীজ পাউডার তৈরি করা হয়। আশা করি
আপনি আলকুশি বীজ পাউডার করার নিয়ম জেনে উপকৃত হয়েছেন।
আলকুশি বীজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি?
আলকুশি বা Mucuna pruriens একধরনের ভেষজ ওষুধ। আয়ুর্বেদিক গন বিভিন্ন কাজে
আলকুশি ব্যবহার করেন। আলকুশি বীজ স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। তবে অনেকেই
আলকুশি বীজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি? জানেন না। আলকুশি বীজের
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।
আলকুশি বীজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি- নিচে তুলে ধরা হলো:
- অতিরিক্ত পরিমাণ আলকুশি বীজ খেলে বমি, পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক হতে পারে।
- অতিরিক্ত পরিমাণ আলকুশি বীজ খেলে হ্যালোসিলেশন, মাথা ঘুরতে পারে।
- বেশি পরিমাণ ডোপামিন নির্গত হয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
- গর্ভবতী এবং স্তন দানকারী মায়েদের জন্য ক্ষতিকর।
- এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- অস্বাভাবিক হারে হার্টবিট বেড়ে বা কমে যেতে পারে।
- দীর্ঘদিন ধরে আলকুশি বীজ খেলে কিডনি এবং লিভার নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আলকুশির পাতা ও শিকড়ের উপকারিতা:
আলকুশি বীজের উপকারিতা যেমন রয়েছে তেমনি আলকুশির পাতা ও শিকড়ের উপকারিতা
রয়েছে। আলকুশি ম্যাজিকাল উদ্ভিদ। আলকুশি চিকিৎসা গত উপকারিতার জন্য অনেক পরিচিত।
তাই এর ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আপনি আলকুশির পাতা ও শিকড়ের উপকারিতা জেনে অনেক অবাক হয়ে যাবেন।
আলকুশি পাতার উপকারিতা নিম্নরূপ:
- ফোঁড়ায় আলকুশি পাতার রস দিলে ফোঁড়া ভালো হয়ে যায় ।
- উচ্চ রক্তচাপ কমাতে আলকুশি পাতা সাহায্য করে।
- বাতের ব্যথা ও মাথা ব্যথা কমাতে আলকুশি পাতা সাহায্য করে।
- আলকুশি পাতা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
- দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে আলকুশি পাতা।
আলকুশি শিকড়ের উপকারিতা নিম্নরূপ:
- আলকুশি শিকড়ের রস খেলে জ্বর সর্দি কাশি ভালো হয়ে যায়।
- আলকুশি শিকড় স্নায়বিক দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে।
- মানসিক চিন্তা, ডিপ্রেশন দূর করতে সাহায্য করে।
- আলকুশি শিকড় দেহে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
আলকুশি পাউডার সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
১) প্রশ্ন: আলকুশি পাউডার মহিলাদের জন্য কতটা উপকারী?
উত্তর: আলকুশি পাউডার মহিলাদের জন্য অনেক উপকারী। কারণ এটি মহিলাদের
হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
২) প্রশ্ন: কোন ধরনের জলবায়ুতে আলকুশি উদ্ভিদ ভালো জন্মায়?
উত্তর: গরম ও আর্দ্র জলবায়ুতে আলকুশি উদ্ভিদ ভালো জন্মায়।
৩) প্রশ্ন: আলকুশি বীজের মূল উপাদান কি?
উত্তর: আলকুশি বীজের মূল উপাদান L-DOPA ।
৪) প্রশ্ন: আলকুশি পাউডার কোথায় পাওয়া যাবে?
উত্তর: অনলাইন বিভিন্ন প্লাটফর্মে আপনি সবসময় আলকুশি পাউডার পাবেন।
৫) প্রশ্ন: আলকুশি পাউডার ছোটো বাচ্চাদের খাওয়ানো যাবে কি?
উত্তর: ছোট বাচ্চাদের আলকুশি পাউডার না খাওয়ানোই উত্তম।
লেখকের শেষ কথা
আলকুশি বীজ চেনার উপায়, আলকুশি বীজ পাউডার করার
নিয়ম সবই আলোচনা করা। এসব ছাড়াও আপনার যদি আরো কিছু জানার থাকে কমেন্ট বক্সে
জানান। আর্টিকেল টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তাদের উপকার করুন। ধন্যবাদ।
আপনি হেবি স্পিচ ব্লগারে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url