পায়ের গাউট এর চিকিৎসা - গাউট হলে কি ক্ষত হয়

গাউট বা গেঁটেবাত অতি পরিচিত একটি সমস্যা। বৃদ্ধ বয়সি পুরুষ এবং মেনোপোজ হওয়ার পর নারীদের গাউট হয়ে থাকে। গাউট অনেক যন্ত্রণাদায়ক রোগ। শরীরের জয়েন্টে পয়েন্টে ব্যথা হয়।

তাই আজকে আমরা গাউট হলে কি ক্ষত হয়? পায়ের গাউট এর চিকিৎসা এ সকল বিষয়ে সহ আরো অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। চলুন আলোচনা শুরু করা যাক।

গাউট স্ফটিক কোথায় সৃষ্টি হয়-গাউট স্ফটিক দ্রবীভূত হতে কত সময় লাগে

গাউট হয় শরীরে ইউরিক অ্যাসিড জমে যাওয়ার কারণে। আর এই কারণে গাউট স্ফটিক হয়। অনেকেই জানেন না যে গাউট স্ফটিক কোথায় সৃষ্টি হয়? চলুন গাউট স্ফটিক কোথায় সৃষ্টি হয় জেনে নিই:
  • টোফাই (Tophi) নামে নরম গাঁটের মধ্যে
  • কিডনিতে (Kidneys)
  • বিভিন্ন গিঁটে (Joints)
  • কোলচিকুলারটিস্যুতে (Periarticular Tissues)

গাউট স্ফটিক দ্রবীভূত হতে কত সময় লাগে? অনেকের প্রশ্ন। গাউট স্ফটিক দ্রবীভূত হওয়ার নির্দিষ্ট সময় নেই। গাউট স্ফটিক দ্রবীভূত হতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর সময় লাগে । কারণ গাউট স্ফটিক দ্রবীভূত হওয়া অনেক দীর্ঘমেয়াদি প্রসেস।

পায়ের গাউট এর চিকিৎসা

পায়ে গাউট হলে হাঁটতে চলতে অনেক কষ্ট হয়। অনেক ব্যথা বেদনা হয়। পায়ের ওজন বেড়ে গেলে, পায়ে ইউরিক এসিড জমে গেলে পায়ে গাউট হয়। এক্ষেত্রে বৃদ্ধ মানুষদের অনেক কষ্ট হয়।

তাই পায়ের গাউট এর চিকিৎসা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। নিচে পায়ের গাউট এর চিকিৎসা তুলে ধরা হলো: 
নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগস (NSAIDs) জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। যেমন: ইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন।
ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর জন্য কোলচিসিন (Colchicine) জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।
অ্যালোপিউরিনল (Allopurinol), ফেবুক্সোস্ট্যাট (Febuxostat) ওষুধ গুলো ইউরিক অ্যাসিড কমানোর জন্য খাওয়া যেতে পারে।

গাউট রোগের চিকিৎসা না হলে কি হয়

গাউট রোগের চিকিৎসা না হলে কি হয়? প্রশ্নটা খুবই ভয়ংকর। কারন গাউট রোগের চিকিৎসা করা অত্যাবশ্যক। গাউট হয় শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জমার কারণে, আর গাউট রোগের চিকিৎসা না হলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড এর পরিমাণ বেড়ে যাবে। এর ফলে শরীরের অনেক ক্ষতি হবে।

গাউট রোগের চিকিৎসা না হলে কি হয় - নিচে উল্লেখ করা হলো:
  • গাউট হলে তীব্র ব্যাথা হয় এর কারণে অক্ষমতা সৃষ্টি হতে পারে।
  • গাউট এর কারণে ইউরিক অ্যাসিড জমে টফি সৃষ্টি হয়
  • অস্থি সন্ধি, জয়েন্ট গুলো ক্ষয় হয়ে যেতে পারে
  • রক্তচাপ বৃদ্ধি পেয়ে হৃদ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গাউট হলে কখন ডাক্তার দেখাতে হয়

গাউট হলে কখন ডাক্তার দেখাতে হয়? যাদের প্রথম গাউট হয়েছে এই বিষয়ে তারা জানেন না। গাউট হলে অনেক ব্যাথা,যন্ত্রণা হয়। গাউট বা গেটে বাত খুবই খারাপ জিনিস। তাই গাউট হলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তার দেখাতে হবে।

গাউট হলে কখন ডাক্তার দেখাতে হয়- এই বিষয়ে আলোচনা করা হলো:
  • অতিরিক্ত প্রচন্ড ব্যথা শুরু হলে
  • ইউরিক এসিড জমে আছে স্ফটিক অনেক শক্ত হয়ে গেলে
  • জয়েন্ট নাড়াচাড়া করা কঠিন হলে
  • বারবার গাউট হতেই থাকলে
  • গাউটের ব্যথায় জ্বর আসলে
  • শরীরে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার কারণে অন্যান্য কোন সমস্যা দেখা দিলে
  • গাউটের প্রাথমিক চিকিৎসা গুলো কাজ না করলে।

গাউট রোগে কোন সবজি খাওয়া যাবে না

গাউট রোগে কোন সবজি খাওয়া যাবে না? সবার জানা প্রয়োজন। গাউট হওয়ার পর কিছু সবজি রয়েছে যেগুলো খেলে সমস্যা বেড়ে যায়। কারণ সবজিগুলোতে উচ্চ পুরিন থাকে যা শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে গাউট নিরাময় হয় না।

গাউট রোগে কোন সবজি খাওয়া যাবে না- নিচে উল্লেখ করা হলো:
  • পালং শাক
  • পুঁইশাক
  • শিম
  • মাশরুম
  • ফুলকপি
  • বাঁধাকপি
কারন সবজি গুলো উচ্চ পুরিন যুক্ত।

বাঁধাকপি খেলে কি গাউট হয়

গাউট হওয়ার পর কিছু কিছু সবজি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। উচ্চ পুরিন যুক্ত সবজি গাউট এর জন্য ক্ষতিকর। কারণ উচ্চ পুরিন যুক্ত সবজি খেলে শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। আর শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলেই গাউট হয়।

এখন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন বাঁধাকপি খেলে কি গাউট হয়? না, সরাসরি বাঁধাকপির জন্য গাউট হয় না। তবে অতিরিক্ত পরিমাণ বাঁধাকপি খেলে গাউট হতে পারে। কারণ বাঁধাকপিতে অনেক পুরিন আছে। তাই গাউট হলে বাঁধাকপি খাওয়া হতে বিরত থাকবেন।

গাউট হলে কি লেটুস খাওয়া যাবে

যেহুতু গাউট হলে অনেক সবজি খাওয়া নিষেধ তাই অনেকেই জানতে চান যে গাউট হলে কি লেটুস খাওয়া যাবে? হ্যাঁ, গাউট হলে লেটুস খাওয়া যাবে। কারণ, লেটুস অনেক উপকারী পাতা। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

লেটুস পাতায় পুরিন এর মাত্রা কম। তাই, লেটুস খেলে শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে না। যার ফলে শরীরে কোনো সমস্যা দেখা দিবে না, গাউট এর যন্ত্রণা বৃদ্ধি পাবে না। এই জন্যই গাউট হলে লেটুস খাওয়া যাবে।

গাউট রোগে নারকেল দুধ কি ক্ষতিকর

গাউট হলে দুগ্ধজাত খাবার হতে বিরত থাকা উচিত তাই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে গাউট রোগে নারকেল দুধ কি ক্ষতিকর? না, গাউট রোগে নারকেল দুধ কি ক্ষতিকর নয়। কারন নারিকেল দুধ অনেক উপকারী খাবার। এতে পুরিনের মাত্রা কম।

তবে , নারিকেল দুধে পুরিনের মাত্রা কম বলে আপনি অনেক পরিমাণ খাবেন এরকম করা উচিত নয়। কারন নারিকেল দুধে saturated fat রয়েছে যা ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। তাই অতিরিক্ত নারিকেল দুধ খেলে গাউট এর প্রভাব বেড়ে যেতে পারে। অতএব, অতিরিক্ত পরিমাণ নারিকেল দুধ গাউট রোগের জন্য ক্ষতিকর।

গাউটের জন্য কোন ফলের পানীয় ভালো

গাউট রোগ হয় শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড জমে যায় এই কারণে। তাই গাউটের জন্য সেই সকল পানিয় ভালো যেগুলো খেলে শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমে যাবে। এই জন্যই গাউটের জন্য কোন ফলের পানীয় ভালো? জানা প্রয়োজন।

গাউটের জন্য চেরি ফলের পানীয় ভালো। কারণ চেরি ফলের পানীয় শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। টার্ট নামক চেরি এক্ষেত্রে আরো বেশি উপকারী। কারণ এটি শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমানোর সাথে সাথে গাউট এর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, গাউটের জন্য চেরি ফলের পানীয় ভালো।

গাউট রোগীর জন্য আঙ্গুর কি ক্ষতিকর

গাউট হলে কিছু কিছু খাবার বা ফল খাওয়া হতে বিরত থাকা উচিত। কারণ বেশি ভাগ ফলে ফ্রুক্টোজ থাকে । আর গাউট রোগীর জন্য ফ্রুক্টোজ বেশি পরিমাণ গ্রহণ করা ক্ষতিকর।

গাউট রোগীর জন্য আঙ্গুর কি ক্ষতিকর? না, গাউট রোগীর জন্য আঙ্গুর ক্ষতিকর নয়। তবে বেশি পরিমাণ আঙ্গুর খাওয়া গাউট রোগীর জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। কারণ আঙ্গুরে ফ্রুক্টোজ রয়েছে। গাউট হলে বেশি মিষ্টি আঙ্গুর, কিসমিস খাওয়া যাবে না। কারণ এসবে ফ্রুক্টোজ এর পরিমাণ আরো বেশি।

FAQs: পায়ের গাউট এর চিকিৎসা 

১) প্রশ্ন: অমাবস্যার সময় কি গাউট এর ব্যথা বৃদ্ধি পায়?
উত্তর: অমাবস্যার সময় গাউট এর ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে, এর নির্দিষ্ট কোন গবেষণামূলক উত্তর নেই। 

২) প্রশ্ন: গাউট হলে লেবুর শরবত খাওয়া যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, গাউট হলে লেবুর শরবত খাওয়া যাবে। 

৩) প্রশ্ন: গাউট কেনো হয়? 
উত্তর: শরীরে ইউরিক এসিড এর পরিমাণ বেড়ে গেলে গাউট হয়। 

৪) প্রশ্ন: গেঁটেবাত সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব?
উত্তর: না, গেঁটেবাত সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। চিকিৎসা মাধ্যমে এর প্রদাহ কমানো যেতে পারে।

৫) প্রশ্ন: ছোট বাচ্চাদের গাউট হতে পারে কি? 
উত্তর: সাধারণত ছোট বাচ্চাদের গাউট হয় না। কারণ তাদের শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। 

লেখকের শেষ কথা

আপনি নিজে আর্টিকেলটি পড়ে আপনার বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ মানুষটির সেবা যত্ন করুন তাকে সতর্ক করুন। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন আমাদের পাশেই থাকুন। ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি হেবি স্পিচ ব্লগারে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url